আমাদের কোলকাতা ও দার্জিলিং ট্রিপ রিপোর্ট – ফেব্রুয়ারি ২০১৪

সজলের একটা কনফারেন্সে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে (যেটায় সে অনেক দেশের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঝে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে) অনেকটা হুট করেই ঠিক হল আমাদের ইন্ডিয়া ঘুরতে যাওয়ার ব্যাপারটা। “আমি যাব”, “আমি যাব না” করতে করতে সজল ছাড়া আমরা আর পাঁচ জন ঠিক করলাম “কি আছে দুনিয়ায়! যাই ঘুরে আসি।”

পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ার পরও, বিভিন্ন কারনে পুরো দেশের মতই আমাদের মনেও ইন্ডিয়ার ব্যাপারে একটা বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া কাজ করছিল। কিন্তু শেষমেশ আমাদের দেশপ্রেমিক মনকে ভ্রমনপিপাশু মন হারিয়েই দিল আর আমরা ইন্ডিয়া গিয়ে কিছু “বাংলাদেশি” টাকা খরচ করতে সানন্দে রাজি হয়ে গেলাম।

ভিসা পর্ব

প্রথম ধাক্কা ছিল “ভিসা”। অনলাইনে ফর্ম পুরন করা যায় ঠিকই, কিন্তু নিয়ম থাকার পরও ফরম/কাগজপত্র জমা দেয়ার কোন ডেইট পাওয়া যায় না। ডেইট ভাগ্যক্রমে পাওয়া গেলেও তা হয় দুই তিন মাস পর। এত সময় আমাদের হাতে ছিল না; ভিসা দরকার ছিল ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে।

সনি একজন ব্রোকার খুজে বের করল যে কিনা ৩০০ টাকায় ডেইট পাইয়ে দেয় (যদিও আমাদের ইমারজেন্সির কথা শুনে খরচটা সাড়ে পাঁচগুনে গিয়ে দাঁড়ায়)।

সনির এক্সিস্টিং ইন্ডিয়ান ভিসা ছিল। বাকিরা ডেইট পাওয়ার পর বিশাল লাইনে দাঁড়ালাম, অনৈতিকভাবে লাইন ভেঙে আগে ঢোকার জন্য পুলিশকে ঘুষ দিলাম, ভেতরে ঢুকে কর্তব্যরত ভিসা অফিসারদের গণহারে দুর্ব্যবহার সহ্য করলাম ও আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে তিন দিনের মধ্যে আমরা সবাই ভিসাও পেয়ে গেলাম।

যাত্রা ও ইমিগ্রেশন পর্ব

সারা রাত জার্নি করে আমরা চারজন (সাগর একদিন পরে আসে, সজল চারদিন আগেই কনফারেন্সে অংশ নিতে চলে যায়) ১৮ তারিখ সকালে বেনাপোল বর্ডারে পৌছালাম। সোহাগ পরিবহণের স্টাফরাই ইমিগ্রাশন আর কাস্টমসের সময় সহায়তা করল। তাই বিশাল লাইনে দাঁড়ানোর পরও, কোনপ্রকার ঝামেলা ছাড়াই আমরা ইন্ডিয়া প্রবেশ করলাম – প্লেইনে গেলে কাস্টমসের এত কড়াকড়ি থাকে না, ল্যান্ডে ঝামেলাটা একটু বেশি। ইন্ডিয়া ঢুকেই প্রথমে যে দুটো জিনিস লক্ষ্য করলাম – ঝালমুড়ি ওয়ালার ব্যপক বন্দোবস্ত আর বিশাল বিশাল কড়ই গাছ। আমাদের দেশে নরমালি এত বিশাল গাছ দেখা যায় না।

ওপাশে সোহাগের কাউন্টার থেকে সিম কিনে নিলাম আর কলকাতা পর্যন্ত যাওয়ার বাসের টিকেট কনফার্ম করলাম। বাস জার্নিটা খুবই কষ্টকর ছিল – মাত্র ৮৩ কিলোমিটার যানজটবিহীন রাস্তা, পার করতে সময় লাগলো ৪ ঘণ্টারও বেশি – ২ বার ঘুম দিয়ে উঠেও কলকাতার দেখা পেলাম না।

কোলকাতা হাইলাইটস

দশদিনের মত ছিলাম ইন্ডিয়ায়, সব কিছুর বর্ণনা দিতে গেলে দিন রাতের তালগোল লেগে যাবে। তাই শুধু উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা আর মতামত তুলে ধরছি।

কলকাতার নিউ মার্কেট, মারকাস স্ট্রিট, ফ্রী স্কুল স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, মির্জা ঘালিব স্ট্রিট ও তার আশেপাশের রাস্তা জুড়ে অনেক হোটেল – বেশিরভাগই ৬০০-১২০০ রুপির মধ্যে (কলকাতায় অবশ্য “টাকা” শব্দটা গণহারে ব্যবহার হয়)। নিউ মার্কেট এরিয়ার বেশিরভাগ রিকশাওয়ালা (এবং অন্যান্যরা) কোন না কোন হোটেলের দালালি করে থাকে… “দালাল হইতে সাবধান”। আমরা উঠেছিলাম ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের হোটেল রাহবারে। মুসলিম ওনার, তেমন একটা ফ্লেক্সিবল না, নেগসিএশান করে তেমন শুবিধা করতে পারি নি… ৫ জনের জন্য একটা রুম নিতে খরচ হল ১৪০০ রুপি।

কলকাতা বাংলাদেশের মতই – একটু সস্তা, একটু কম যানজট, মানুষগুলো একটু বেশি পুরনো নয়ত একটু বেশী আধুনিক – এই আরকি। প্রথম দেখায় কলকাতাকে আমাদের ঢাকার চেয়ে অনেক বেশি পুরনো আর মলিন লাগতে পারে, কিন্তু একটু খেয়াল করে এর লাইফস্টাইল আর ইতিহাস লক্ষ্য করলে বোঝা যায় যে “শহরটা দারুন”। আমাদের ঢাকার মত এখানে বড় বড় শপিং মল নেই ঠিকই, কিন্তু ইতিহাসের যে সাক্ষী এই শহরটা যত্ন করে আগলে রেখেছে, তা রীতিমত বিস্ময়কর।

ওদের ট্রাফিক সিস্টেম আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছে। শর্ট ডিস্টেন্স ওরা হেঁটেই পার হয়। টানা রিকশা চলে মার্কেট এরিয়ায় আর সাইকেল রিকশা চলে আবাসিকে। রিকশার বড় রাস্তায় ওঠার অনুমুতি নেই – তাই ঢাকার মত রিকশায় “শ্যামলী থেকে রিফেলস স্কয়ার” যাওয়া সম্ভব না। এর জন্য ব্যবহার করতে হবে অটো (সিএনজি) অথবা ট্যাক্সি। পৃথিবীর অন্য সব যাগার মত এখানেও ট্যাক্সি মিটারে যেতে চায় না। এছাড়া আছে প্রশস্ত রাস্তা, এসি বাস, লোকাল বাস, লোকাল ট্রেন, ট্রাম আর মেট্রো (পাতাল ট্রেন)। ট্রাফিক সিগনালও সবাই সুন্দর মেনে চলে। এত কাছের একটা শহর, ভাষাও একই – ওদেরকে যদি ট্রাফিক রুলস শেখানো যায়, আমাদেরকে কেন যায় না। আমার মতে, একটা দেশের উন্নতির জন্য অন্যতম ফেক্টর হচ্ছে ট্রাফিক সিস্টেম। আমাদেরটা কবে ঠিক হবে?

কলকাতায় মোটামোটি সবকিছুর দাম কম হলেও চায়ের দাম তুলনামুলক বেশি। অবশ্য এই কথা দোকানদারকে বলায় দোকানের সবাই আমার উপর হালকা চড়াও হওয়ার মত হয় – আমিও চুপ করে যাই! কলকাতায় অসাধারণ তাজা ফলের জুস মাত্র ২০ রুপি করে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মাল্টা (মসাম্বি), আনারস, কমলা, আম (সিজন ভেদে) ইত্যাদির জুস বিক্রি হচ্ছে। চারটা কমলা দিয়ে, কোন পানি বা চিনি ব্যাবহার না করে অসাধারন শরবত মাত্র বিশ রুপি (২৫ টাকা)। সেই তুলনায় ৫-৬ রুপি করে এক কাপ চা – যা কিনা আমাদের দেশের কাপের তুলনায় অর্ধেক – দামটা আমার কাছে একটু বেশিই মনে হল। আর একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল, চায়ের কাপগুলো মাটির, খাওয়ার পর ভেঙে ফেলতে হয় (পানিপুরির খেত্রেও এক – পাতার প্লেট)। কারন জিজ্ঞেস করায় চাওয়ালা উত্তর দিলেন “বাঙ্গালী বাবুরা প্লাস্টিকের কাপে চা খাবে না”। সিরামিকের বা কাঁচের কাপের কথা জিজ্ঞেস করে উত্তরে পেলাম ছোট্ট হাসি। কারন টা উদ্ধার করতে পারলাম না। এটা কি অনেক আগে থেকে চর্চা হয়ে আসা সনাতনী বর্ণবাদের একটা রয়ে যাওয়া অভ্যাস, নাকি শুধুই হাইজিন? জানি না।

দার্জিলিং হাইলাইটস

আমাদের দেশে যোগাযোগের সবচেয়ে অবহেলিত যে জাগা, তা ইন্ডিয়ায় সবথেকে পপুলার ও ওয়েল মেইন্টেইন্ড – ট্রেন। দিনে শত শত ট্রেন এক শহর থেকে অন্য শহরে ছুটে যায় – ঘড়ির কাটা ধরে – ১০ মিনিট দেরিকেই এখানে অনেক ধরা হয়। এক কলকাতা শহরেই (ও হাওড়া) তিনটা বড় বড় স্টেশান। আমরা “কোলকাতা স্টেশান” থেকে রাত ৯ টা ৪০ এর এক্সপ্রেস ট্রেন ধরে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশান, শিলিগুড়ির দিকে ছুটে গেলাম। ট্রেনটা ছাড়তে ৫ মিনিট লেট হয়েছিল। বলে রাখা ভাল, আমরা প্রায় ২০ দিন আগে ট্রেনের টিকেট করে রেখেছিলাম – টিকেট পাওয়াটা খুবই কষ্টের।

রাতে ট্রেনে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হল। আমি আমাদের বুথের নিচের বাঙ্কে ঘুমাচ্ছিলাম। রাত দুটা-তিনটার দিকে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় ঘুম ভেঙে গেল। কলকাতায় ভালই গরম ছিল, রাতে এত ঠাণ্ডা পড়বে বুঝিনি। তাই চাদর আর জুতা-মোজা ছিল ব্যাগে তালাবন্দি, ব্যাগ ছিল এক ঘুমন্ত আন্টির বাঙ্কের নিচে – যা ওই অবস্থায় আমার পক্ষে উদ্ধার করা সম্ভব ছিল না। জীবনে ঠাণ্ডায় এত কষ্ট আমি কোনদিন পাই নাই। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, এরকম শীতেই মনে হয় মানুষ মারা যায়। জ্যাকেট পরে শীতে কাঁপতে কাঁপতে আন্টির ঘুম ভাঙার অপেক্ষা করা ছাড়া আমার আর কিছুই করার ছিল না। মনে হয় ২০-৩০ মিনিট পর আন্টির ঘুম ভাঙ্গে। আমি সাথে সাথে সিটের নিচ থেকে ব্যাগ বের করে; জ্যাকেটের উপর চাদর আর জুতা মোজা পরে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। আমি আর জীবনেও নিজের ব্যাগ অন্যের নিচে রাখব না।

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশান দার্জিলিং থেকে বেশ দূরে। আটটার দিকে পৌঁছানোর পর স্টেশানের পাশের খাবারের দোকানে হাতমুখ ধুয়ে, নাস্তা করে দার্জিলিং যাওয়ার প্রস্তুতি নিলাম। বড় বড় জীপ স্টেশান থেকে মানুষদের দার্জিলিং নিয়ে যায়। ঝামেলাবিহীন প্রিপেইড ট্যাক্সি সার্ভিস আছে ঠিকই কিন্তু দালালদের পাশ কাটিয়ে কাউন্টারে যাওয়াটা একটু কঠিন। অনেক দরাদরি করে, কিছুটা রাগারাগি করে, অনেক অনেক টুরিস্ট ট্র্যাপ এড়িয়ে, আমরা একটা প্রাইভেট জীপ এর ৮ টা সিট বুক করলাম (১৫০০ রুপি)। সিটগুলো ছোট হওয়ায় ৬ জনের জন্য ৮ টা সিট নেয়া। জিপের সামনে উঠলো অন্য দুজন টুরিস্ট।

দার্জিলিং যাওয়ার পথটা ছিল দারুন – প্রথমে শিলিগুড়িতে চা বাগানের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। একঘণ্টা না পেরুতেই রাস্তায় পাহাড়ি ভাব দেখা যায়। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পৌঁছাতে আমাদের ঠিক কতক্ষণ লেগেছিল মনে নেই, কিন্তু সেটা ৩ ঘণ্টার কম হবে না। যাত্রার মাঝ পথ থেকেই ঠাণ্ডা লাগা শুরু করে… ভাগ্য ভাল জ্যাকেটটা কোলের উপরেই ছিল।

পাহাড়ি খাড়া বাক, খাঁদ, পাইন ফরেস্ট, ছোট ছোট রোড সাইড বাজার আর লোকালয় পার হয়ে আমাদের জীপ দ্রুত গন্তব্যের দিকে ছুটে চলল। মাত্র দেড় মাস আগেই নেপাল থেকে ঘুরে আসায় পাহাড়ি রাস্তা আর মেঘের হাতছানি দেখে বিস্মিত হচ্ছিলাম না বটে, কিন্তু সবকিছুই দারুন লাগছিল। খুব ছোটবেলায় মা-বাবার সাথে একবার দার্জিলিং আসি – যদিও কিছুই মনে নেই, তাও সেই স্মৃতি হাতড়ে বেড়ানোর চেষ্টা করাও তখন দোষের কিছু মনে হয়নি। ১৯-২০ বছর আগের দার্জিলিং সফরের স্মৃতি বলতে মল এরিয়ার ঘন কুয়াশা জড়ানো বেঞ্চ আর টাট্টু ঘোড়া, হোটেলের ময়লা কম্বলের ভেতর ক্লান্ত মা আর আমার উষ্ণতা খোঁজা, আর আব্বুর ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে চিড়িয়াখানার বৃষ্টিভেজা লাজুক লাল পাণ্ডা দেখা – এই যা।

বান্দরবান থেকে নীলগিরি বা কাঠমুন্ডু থেকে পোখারা যাওয়ার রাস্তার সাথে দার্জিলিং যাওয়ার রাস্তার কিছুটা পার্থক্য আছে। আমার কাছে মনে হয়েছে বান্দরবানের রাস্তা অনেক সরু আর বিপজ্জনক, পোখারার রাস্তা অনেক চওড়া, ফ্ল্যাট আর বাস-ফ্রেন্ডলি। দার্জিলিং এর রাস্তা চওড়া, কিন্তু অনেক বেশি খাড়া। আর দুই ধারের পাইন গাছের সারি অথবা পাহাড়ি ঢাল বা পরিত্যেক্ত টয় ট্রেনের লাইন রাস্তাটাকে একটা পৌরাণিক রুপ দান করে।

আমাদের জীপটা আমাদেরকে মল এরিয়ার কিছু আগে হোটেলের গলির মুখে নামিয়ে দেয়। জাগাটার নাম সম্ভবত ট্যাক্সি স্ট্যান্ড (এনজেপি স্টেশান থেকেই আমরা একটা হটেল বুক করে ফেলি)। দার্জিলিং শহরের রাস্তা গুলো খুব খাঁড়া হওয়ায় সব গাড়ির সব রাস্তায় যাওয়ার অনুমুতি নেই। তাই ভাড়া চুকিয়ে, নিজেরাই ব্যাগ টেনে হাঁপাতে হাঁপাতে হোটেল দিল এর গেইটে উপস্থিত হলাম। হোটেলের মালিক ছিলেন একজন বাঙালি, নিতান্তই আঙ্কেল শ্রেণির ভদ্রলোক। হোটেলের দোতালায় তার বাসা। কয়েকজন মুষ্ক “বাংলাদেশি” জওয়ান তার হোটেলে থাকবে শুনে কিছুটা বিরক্ত হলেন তিনি। কারন, নিয়মানুযায়ী তাকে কিছু অতিরিক্ত পেপারওয়ার্ক আর পুলিশ ভেরিফিকেশান করাতে হবে। একপর্যায়ে তিনি বলেই ফেললেন, পাশাপাশি দুই দেশ, কই সম্পর্ক হবে বন্ধুর মত, তা না, এত কড়াকড়ি। হোটেলটা আমাদের বাজেটের (৬ জনের রুম, ৩ রাত, ৩৬০০ রুপি) মধ্যে বেশ ভাল ছিল, স্টাফরাও ছিল হেল্পফুল।

এরপরের দুই তিনদিন আমরা দার্জিলিং ও তার আশেপাশের জাগাগুলো বেশ ঘুরলাম। পাহাড়ের উপরের শহর, কিন্তু বেশ বড় আর ঘনবসতি। ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের জীপগুলই বিভিন্ন ট্যুর আর সাইটসিইং অফার করে। একটা জীপ ভাড়া করে আমরা ৩ দিন ঘুরলাম, জীপটাই আমাদের শেষের দিন এনজেপি স্টেশানে নামিয়ে দিল। দার্জিলিং ট্যুর ছাড়াও এতে ছিল মিরিক, পাশুপাতিনাথ, শুখিয়াপখ্রি। সবমিলিয়ে ৫৭০০ রুপি খরচ হয় এতে। শেষের দিন সকাল পর্যন্ত আমরা কুয়াশার জন্য কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পাইনি।

আমার কাছে মনে হয়েছে দার্জিলিং “টুরিস্ট স্পট” হিসেবে যতটা না ভাল, তার থেকে অনেক ভাল যদি সেখানে বেশি সময় নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে। পাহাড়ের উপর স্তরে স্তরে সাজানো অদ্ভুত একটা শহর, অত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না, তবে বাঙ্গালির কাছে সেটা কোন সমস্যাও না। মল এরিয়া থেকে সম্ভবত উত্তরের রাস্তায় গেলে একটা ছোট্ট স্কুল পরে, ওই জাগাটা অনেক বেশি সুন্দর, টুরিস্টরা তেমন একটা আসেনা এদিকে। স্কুলটা একেবারে পাহাড়ের ঢালে, দূরে আরও অনেক পাহাড়, উপত্যকা। কুয়াশা না থাকলে এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘাও দেখা যেত। কুয়াশা, মেঘ, সবুজ আর শূন্যতা মিলে অদ্ভুত সুন্দর একটা অনুভুতি হয় এখানে।

আমার কাছে দার্জিলিং থেকে কোলকাতা শহরটাই বেশি ইন্টারেস্টিং লেগেছে। হয়ত কিছুদিন আগে নেপাল না গেলে, বা ট্রেন জার্নিটা এত কষ্টের না হলে, বা দার্জিলিঙের লোকালয়গুলো আরও বেশি পায়ে হেঁটে ঘুরতে পারলে ধারনাটা অন্যরকম হত। হয়ত ঢাকার সাথে কোলকাতার ট্রাফিক সিস্টেমের আকাশ পাতাল তফাৎ আমার এই ধারনার আর একটা কারন। যাইহোক… ট্রিপটা দারুন ছিল। একদম ছোটবেলার বন্ধুদের সাথে এটাই প্রথম বিদেশ ভ্রমন, আশা করি ভবিষ্যতে আরও হবে।

বউটাকে বিয়ের দুই মাসের মাথায় বাসায় একা ফেলে এসেছি। তাই একদিন আগেই বন্ধুদের বিদায় দিয়ে কোলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরে আসলাম। ওরা দার্জিলিং থেকে ফিরে কোলকাতায় একদিন বেশি ছিল।

সময়ঃ ১৭ ফেব্রুয়ারি – ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪
স্থানঃ কোলকাতা, দার্জিলিং (গ্যাংটক যাওয়া যায় নি)
মাধ্যমঃ বাস, ট্রেন, জীপ
টিমঃ ৬ বন্ধু
খরচ জনপ্রতিঃ ৬৮৭০ টাকা (খাওয়া আর শপিং বাদে)
ডিটেইল্ড আইটিনেরারি নিয়ে এখানে লিখেছি…

Please like and share this article, if you have found it helpful

About Asif Irtiza Hussain

Asif Irtiza has been blogging since he was a little under 18 years old. He loves spending time with friends, tasting new recipes and wants to travel the world.